প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ওয়াশিংটন ডিবি: ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই দখলদার ইসরায়েলের জন্য ১৫১.৮ মিলিয়ন ডলারের জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ ক্ষমতা বলে মার্কিন কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় ৩০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে এই মারণাস্ত্র সরবরাহের পথ নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরোর ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্যাকেজে রয়েছে ১২ হাজারটি BLU-110A/B ধরনের সাধারণ উদ্দেশ্যের ১,০০০ পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বোমা বডি। এছাড়াও এর সাথে প্রকৌশল, লজিস্টিক এবং উচ্চতর প্রযুক্তিগত সহায়তা সেবাও প্রদান করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘জরুরি পরিস্থিতি’ ধারা ব্যবহার করে এই সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের পরিস্থিতি এখন শোচনীয়। সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ঠিক এই মূহুর্তেই যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল অস্ত্র সহায়তার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের আগুনকে আরও উসকে দিচ্ছে।
ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৯৫৩ সালে ইরানে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব—প্রতিটি ঘটনাই এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি বদলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ১৯৫০-এর দশকে বাঙালি জাতি যখন ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ের লড়াই শুরু করেছিল, তখন থেকেই তারা বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনই সাম্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছে। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর এই যৌথ হামলাকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর হামলার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে।
ইসরায়েলকে এভাবে অস্ত্র দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিরোধ দেখা দিয়েছে। গাজা যুদ্ধের পর থেকেই বেসামরিক হতাহত ও মানবিক সংকটের কথা তুলে ধরে বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি সীমিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘জরুরি অনুমোদন’ সেই সব মানবিক আবেদনকে অগ্রাহ্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই যুদ্ধ কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের হামলার জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খোঁজা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মধ্যস্থতার চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্ব এক বড় ধরণের মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, জ্বালানি তেলের বাজার থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হবে—যার আঁচ বাংলাদেশেও লাগবে।
সূত্র: ১. ইয়েনি শাফাক (Yeni Şafak) আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট।
২. মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরো বিজ্ঞপ্তি।
৩. জাতীয় আর্কাইভস: মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মার্কিন বৈদেশিক নীতির ইতিহাস (১৯৫০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |